বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও এখনও দেশের অনেক এলাকায় আধুনিক মোবাইল ইন্টারনেট সেবা পৌঁছায়নি। বিশেষ করে ফোরজি নেটওয়ার্ক এখনো সবার জন্য সমানভাবে সহজলভ্য হয়নি। শহরের প্রধান জায়গাগুলোতে ফোরজি সংযোগ তুলনামূলক ভালো হলেও প্রত্যন্ত গ্রাম, সীমান্ত এলাকা কিংবা উপকূলীয় অঞ্চলে নেটওয়ার্ক কাভারেজ দুর্বল। ফলে ব্যবহারকারীরা উন্নতমানের ইন্টারনেট সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বাংলাদেশে ফোরজি সেবা চালুর সময় অপারেটররা দেশের প্রায় সব অঞ্চলে দ্রুত কাভারেজ পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও বাস্তবে সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি। বড় শহর ও বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতেই ফোরজি নির্ভরযোগ্যভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে। অথচ গ্রামীণ এলাকার মানুষের জন্য এখনও থ্রি-জি কিংবা টু-জি নেটওয়ার্কই প্রধান ভরসা।
নেটওয়ার্ক দুর্বলতার কারণে ভিডিও কল, অনলাইন ক্লাস, ডিজিটাল লেনদেন বা অফিসের কাজ অনেক সময় বিঘ্নিত হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা এবং ফ্রিল্যান্সাররা এই সমস্যায় বেশি ভোগেন। অনেকে অভিযোগ করেছেন, মোবাইল অপারেটররা বিজ্ঞাপনে ফোরজির উচ্চগতির ইন্টারনেটের প্রচার করলেও বাস্তবে সেটি পাওয়া যায় না।
মোবাইল অপারেটররা দাবি করে, তারা অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করছে। তবে গ্রামীণ অঞ্চলে টাওয়ার বসানো, বিদ্যুৎ সমস্যা এবং প্রযুক্তিগত খরচের কারণে কাভারেজ বিস্তারে বাধা তৈরি হচ্ছে। এছাড়া, দেশজুড়ে সমানভাবে ফোরজি সেবা পৌঁছে দিতে হলে বড় অংকের বিনিয়োগ প্রয়োজন, যা অনেক অপারেটরের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে করা সম্ভব হচ্ছে না।
বিভিন্ন সময় সরকার মোবাইল অপারেটরদের নির্দেশ দিয়েছে প্রত্যন্ত এলাকায় নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের জন্য। নিয়ন্ত্রক সংস্থাও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে নানান উদ্যোগ নিচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে কাভারেজ সমস্যার সমাধান এখনও দৃশ্যমান নয়। ফলে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন অনেকাংশেই ব্যাহত হচ্ছে।
দেশব্যাপী শক্তিশালী ফোরজি নেটওয়ার্ক ছাড়া ই-কমার্স, অনলাইন শিক্ষা, টেলিমেডিসিন বা ফ্রিল্যান্সিং খাত কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি পাবে না। অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনের জন্য ইন্টারনেট অবকাঠামো উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি।
ফোরজি কাভারেজের ঘাটতি পূরণে সরকার ও বেসরকারি খাতকে একসাথে কাজ করতে হবে। নতুন প্রযুক্তি যেমন ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক, ৫জি সেবা এবং স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের বিকল্পও কাজে লাগানো যেতে পারে। একই সঙ্গে অপারেটরদের বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও স্বচ্ছ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছে প্রতিনিয়ত। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ফোরজি কাভারেজ না থাকায় ব্যবহারকারীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। এই সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে দেশের ডিজিটাল অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে। তাই এখনই প্রয়োজন সমন্বিত পরিকল্পনা, যেখানে অপারেটর ও সরকার উভয়েই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
